Wednesday, April 8, 2020

আমি এবং আমার ভুল

আমি কোন লেখক নই। সাংবাদিক ও নাই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক কিছু আসে তা দেখি আর ভাবি। এখন করোনা মোকাবেলার সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রী এবং মেমবার বা অনেক গণপ্রতিনিধি এবং ডাক্তার  দের নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আমরা মুসলিম হিসাবেও আমাদের বিশ্বাস আর দৈন্দিক কাজের নীতি এক নয়। তৈরি পোষাক খাতের মালিক এবং শ্রমিক নিয়েও অনেক সমস্যা।  আমাদের সবার আগে মেনে নেওয়া উচিৎ আমরা সমাজিক এবং অর্থনৈতিক ভাবে বর্তমান বিশ্ব থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও অনেক শক্তিশালী নয়।  

স্বাস্থ্য মন্ত্রী মহাদয়কে সবাই অনেক প্রশ্ন করছি এবং তিনি হতবুদ্ধিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন। একবার ভাবুনতো তার পদমর্যাদায় থেকে ভুল করলে তার কাছে কেমন লাগতে পারে। ভুল ধরা বা সমস্যা খুজে বের করা আমাদের কে সমাধান থেকে দূরে নিয়ে যায়। সমস্যা কোন সমস্যা নয়, যেখনে সমাধান খুজে বের করাই বড় সমস্যা। 

অনেকে লিখছেন চালচোর সর্ম্পকে। তাদের ছবিও দিয়েছেন অনেকে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে চাল চুরির কারণে কি সে পদচ্যুত হয়েছেন? যদি না হন তবে আমি ঐ ব্যক্তিকে অনুরোধ করব যিনি চাল চোর সনাক্ত করেছেন, দয়া করে চাল চোরদের পরিচয় গোপন রেখে একবার সুযোগদিন ভাল হওয়ার। তাতে গনপ্রতিনীধি হিসাবে হয়ত তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারবেন এবং তিনি যদি ভাল হয়ে যান তবে তাকে দেখে অনেক সাধারণ মানুষ অনুপ্রানিত হতে পারে গণপ্রতিনীধি হবার। এখনে শ্রদ্ধার পাত্র হওয়া খুব প্রয়োজন।

এবার আসি ডাক্তারদের কথায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বললেন প্রয়োজনে বিদেশ থেকে ডাক্তার নিয়ে আসবেন। আমি সাধুবাদ জানাই এমন কথাকে। এই মহামারীর সময় কোন দেশের ডাক্তার আমাদের দেশে চাকরী করতে আসবে আমি জানি না। উচ্চ পদস্থ মানুষদের যারা তথ্য দিয়ে থাকেন, অনেক সময় নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে তারা তথ্য পরিবর্তন পরিবর্ধন করে দিয়ে থাকেন। মনোবিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী শাস্তির তুলনায় প্রনোদণা মানুষকে বেশী শক্তি যোগায়। এখন পুরোবিশ্ব ডাক্তারদের দিকে তাকিয়ে আছে। আর আমরা তাদের দোষ ধরতেছি। পারিবারিক ভাবে চিন্তা করুন তো, যদি কেউ দপ্তরিক কাজে এই সময় দেশের বাইরে যাইতে চায়, তার পরিবারের কেউ কি যাইতে উৎসাহ দিবে। বা কোন যুদ্ধ সেনা, যদি অস্ত্র ছাড়া যুদ্ধে যেতে চায় তার পরিবার কি তাকে একবারও বাধা দিবে না। দিন শেষে ডাক্তাররাও আমার আপনার মত মানুষ। আধ্যাত্মিক নেতারা তাদের অনুসারীদের দিয়ে অনেক কাজ করান কিন্তু বিনিময় কি অনেক কিছু দেন না, শুধু কিছু কথা বা অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন।

এখন আসেন তৈরি পোষাক খাতের কথা বলতে চাই। আমাদের দেশে শ্রমিক সহজলভ্য এবং সুলভ, এটা আমরা সবাই জানি। আমরা যারা এই খাতে কাজ করি বা করেছি তারা জানি আমরা প্রতিদিন কত মিথ্যা কথা বলি বা কাগজ বানাই, ক্রেতাদের দেখাবার জন্যে। আমরা শুধু দেখাই শ্রমিক অনেক মুল্যবান। নিশ্চই আমার মত কোন কর্মকর্তা তার মালিকে বুঝিয়ে ছিল, কিছু না করেও আইনের (Compliance) অনুবর্তিতা সম্ভব। যেখানে ঐ কর্মকর্তা নিজের কথা চিন্তা করছিল যার ফলে আজকে আমরাও অনেক পিছনে পড়ে আছি। শ্রমিক মুল্যবান আমি বুঝাইতে পারিনাই। এই ব্যর্থতা আমার। 

সবশেষে তৈরি পোষাক খাতের মালিকদের ব্যপারে কিছু কথা বলতে চাই। তারা অনেক চিন্তা করে ব্যবসায় আসছে। আমাদের সরকারও তাদের অনেক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করে। আমাদের সরকার অনেক ভাল শুধু মাত্র ব্যবসাহীদের জন্য। সরকার সবসময় ব্যবসাহীদের অনুকুল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা দেওয়ার চেষ্টা করে। অনেক খাতে বিদেশী ব্যবসাহীকে বা বিদেশী পণ্য আমদানীকে নিরুসাহিত করা হয় যেন দেশী ব্যবসাহীরা ভাল করতে পারে। এমতাবস্থায় ব্যবসাহিরা শুধু ব্যবসা শিক্ষতে পাড়ে, শিক্ষতে পারে না ব্যবসাহী হিসাবে মনবতা, নৈতিকতা, সততা এবং এমন আরো অনেক কিছু যা অর্থের চেয়েও অনেক দামী। যা জাননে সমাজ অনেক শক্তিশালী হত।  

আমি অনেক ছোট্ট একজন মানুষ যদি আমার মতামত গুলো ভুল হয় আশাকরি ক্ষমা করবেন। বানান ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থী। 

No comments:

Post a Comment

আমি কাপুরুষ

আমি কাপুরুষ চুপ থেকে হারিয়েছি ভাষা ভুলে গেছি কলম ধরা কন্ঠে আমার জমেছে ধুলা জীবনের আয়নাতে আজ হাত আমার বাধা সংসারের পাথরে আটকে গেছে পা এখন আর...