Tuesday, June 30, 2020

একটা স্বপ্নের গল্প - চতুর্থ পর্ব

আজ শুক্রবার বার। আদিল ঘুমাচ্ছে। আদিলের একটা বাজে অভ্যাস আছে। বাসায় ফিরে প্রতিদিন বই পড়ে। কাজে আসবে কি না জানে না। জানার ইচ্ছা অদম্য। অল্প কিছুক্ষন সুমাইয়ার সাথে কথা বলছে। বাকী রাতটা বসে বই পড়ছে। আজকে সে পল হেনরি ও'নিল সম্পর্কে জানল। ভদ্রলোক সমস্যা সমাধানে ওস্তাদ। একটা সমস্যা কিভাবে শিকড় থেকে উপরে ফেলতে হয় তা শিখল। তারপরও বিয়ের সমাধান কিভাবে হবে বুঝতে পারছেনা। 

ছেলেটা অনেক কিছু পড়ে তাই ওর মাথায় অনেক কিছু আসে। অনেক চিন্তা আসে। সমাজ, সংসার, অফিস নিয়ে। কিন্তু বস্তবতায় ওর এই বিদ্যার কোন প্রয়োজন নাই। যার সাথেই কথা বলে সে ওর কথার গুরুত্বই দেয় না। সমবয়সী ছেলে মেয়েরা অন্য জগৎ নিয়ে ব্যস্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের জীবনের অনেক বড় অংশ দখল করে আছে। আদিলের জীবনে যে এর ছোয়া নাই তা নয়। তবে ওর বন্ধু বান্ধুবীরা কেউ তেমন বই পড়ে না। সুমাইয়াকে ভাল লাগার এই আর একটা কারণ সুমাইয়াও বই পড়ে। দুজনের মাঝে একটা বড় প্রর্থক্য আছে, একজন পড়ে জানার জন্যে আর একজন পড়ে সময় কাটানোর করার জন্যে। 

সুমাইয়া পড়ার অভ্যাস পেয়েছে বাবার কাছ থেকে। আর আদিল পেয়েছে ওর মায়ের কাছ থেকে। মানুষের সম্পর্কগুলো কেন তৈরি হয় এটা আজও দুজনের কাছেই দুর্বোধ্য। তারপরও কেমন যেন ভাললাগা কাজ করে দুজনের মাঝেই যখন কথা হয়, দেখা হয়। এই অনুভূতির নামই হয়ত ভালবাসা বা প্রেম বা প্রনয়। একবন্ধুর বাসার বিয়ের অনুষ্টানে পরিচয় দুজনের এরপর বন্ধুত্ব। বয়সের ব্যবধান ২ বছর। বয়সের ব্যবধান ব্যাপারটা সুমাইয়া খুব উপভোগ করে। কারণ সুমাইয়ার ভাই যেমন বোনকে আদর, শাসন করে আগলে রাখে ঠিক এমন একটা অভিভাবক সুলভ আচরণ সে আদিলের মাঝে অনুভব করে যা সুমাইয়ার খুব ভাল লাগে। 

আদিলের অনুভূতিগুলো অন্য রকম। আদিলের কোন ভাই বোন নাই।  আদিল একা বড় হয়েছে। ওর কাছে পৃথিবীর পুরোটাই মা। মা ছাড়া ছেলেটা অচল। মায়ের আদর, শাসন সব কিছুই ভাল লাগে। মারলেও ভাল লাগে। এক সময় মনে হত মা তো গুরুজন মায়ের সাথে মনের অনেক সুপ্ত অনুভুতি আছে যা মায়ের কাছে বলতে পারে না। মনে হয় এমন একজন মানুষ দরকার যার কাছে বলতে পারবে এবং বুঝবে। যদি সুযোগ থেকে সে আদিল কে অনুপ্রনিত করবে। মা অনুপ্রাণিত করে, তারপরও। অনুভূতিগুলো গল্পের মত। আদিল ভাবে কত কিছু করা যায়। দেশের বেহাল দশা দেখে চিন্তা করে কিভাবে এর হাল ফিরিয়ে আনা যায়। একটা ব্যাটারী চালিত গাড়ী বানানোর চিন্তা করে, যে গাড়ীর চার্জ কখনও শেষ হবে না। বাণিজ্যের ছাত্র হয়ে বিজ্ঞান নিয়ে চিন্তা করে। আসলে এগুলো বই পড়ার ফসল। আর আদিল চায় এই সব আবোল তাবোল চিন্তা ভাবনা এমন কারো সাথে আলাপ করবে যে বলবে না তুমি পাগল। আর সুমাইয়া তার উপযুক্ত সঙ্গী। সুমাইয়ার মত শ্রতা পাওয়া দায়। মেয়েটা আদিলের এই সব কল্প কাহিনী শুনতে পছন্দ করে এবং মাঝে মাঝে বলে তোমার তো অন্য কিছু করা উচিৎ ছিল। মেয়েটা এটাও ভাবে এত বুদ্ধীদিপ্ত ছেলেটা এদেশে হয়ত কখনও সমাদর পাবে না। অনেক অনুভূতি কাজ করে ছেলেটার জন্যে।  

আদিলের বাবা শুক্রবার বিকালে হারানো দিনের বাংলা গান শুনে। এইটা আদিলের কাছে অনেক ভাল লাগে। গান গুলো বাবার সাথে সেও শুনে এবং বুঝতে পারে এই গান গুলোতে এখনও যে অনুভূতি আছে, তা আজকালকার গানে নাই। আদিল মায়ের কাছে গেল। নাস্তা করবে। নাস্তা করতে করতে মার কাছে জানতে চাইল সে বাবাকে কিছু বলছে কিনা। মা বলল, নারে এখনও বলি নাই, বিকালে তোর বাবা যখন গান শুনবে তখন গল্প করতে করতে বলব। 

নামাজ আছে তাই সকালেই গোসল করে নিজেকে গুছিয়ে নিল আদিল। মসজিদ থেকে বাসায় ফিরে সবার সাথে খাওয়া শেষ করে বেরিয়ে গেল। বাবার সামনে থাকতে চায় না। বাবার সাথে ওর সম্পর্কটা বন্ধুর মত না। আবার আগের যুগের বাবারা যেমন ছেলেদের অনেক শাসন করতেন ঐ রকমও না। ইদানীং বাবা আর সন্তানের বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ক দেখেতে ওর অনেক ভাল লাগে। একধরনের অদ্ভত আবেগ কাজ করে। ওর কাছে নিজের পরিবার অনেক দামী। পরিবারের সবার দিকে তাকিয়ে অনেক কিছুই সে করতে পারে না। ভবিষ্যতে পারবে কিনা তা জানে না। আত্মবিশ্বাস আছে, অভাব শুধু সাহসের। বাবা যদি কোনদিন ঘাড়ে হাত রেখে বলত যা ভাল লাগে কর, তবে আদিল আর পেছনে ফিরে তাকাত না। অন্য রকম কিছু করে দেখাত। মাঝে মাঝে ভাবে কি করত?

এভাবে ভাবতে ভাবতে বাসা থেকে বের হয়ে রবীন্দ্রসরবর চলে গেল, কিছু বন্ধু আছে আড্ডা দেওয়া যাবে। মন কিন্তু পড়ে থাকল বাসায় মা যখন বাবাকে বলবে তখন কি হবে? 

দুপুরে ভাল খাওয়া দাওয়ার পর জামান সাহেন শোবার ঘরে চলে গেলেন। রান্না ঘর গুছিয়ে আদিলের মা ও চলে আসলেন শোবার ঘরে। এমন সময় জামান সাহেব কথা শুরু করেলেন।

জামান সাহেবঃ আমি কয়েক দিন ধরে কিছু ব্যাপারে চিন্তিত।
আদিলের মাঃ কিছু বল নাই তো 
জামান সাহেবঃ বলার সময় কোথায়, ছেলে বড় হয়েছে সব কথা কি আর ওর সামনে আলাপ করা যায়
আদিলের মাঃ তা যায় না, রাতে তো বলতে পারতে
জামান সাহেবঃ আসলে তুমি সারাদিন খাটাখাটনি কর, এরপর আর কি কথা বলব, ভাবছি তোমাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাই কয়েক দিনের জন্যে, সারাজীবন তো আমরা কষ্টই করলাম সন্তানের দিকে তাকিয়ে।
আদিলের মাঃ ছেলেকে দেখলে আমার সব কষ্ট দূর হয়ে যায়, তোমার হয় না?
জামান সাহেবঃ হয়, কিন্তু আমি তো বাবা তাই নতুন চিন্তা যোগ হয়। এই ধর এখন ওর যে বয়স তাতে একটা সম্পর্ক হওয়া কোন ব্যাপার না। যদি কোন সম্পর্ক থাকে তবে বিয়ের ব্যাপারটা ভাবতে হবে। আজকাল কার ছেলে ওর মতামতই তো আসল। শুধু মেয়েটা যেন জাতের হয়। 
আদিলে মাঃ হ্যা। তুমি তো অনেক কথাই বললে। আমি এব্যাপারে ছেলের সাথে আলাপ করছি এবং ছেলে বলছে তার একটা সম্পর্ক আছে। মেয়ের নাম সুমাইয়া। 
জামান সাহেবঃ আমি অনুমান কখনও ধোকা দেয় না। মা হিসাবে তোমার অনুমান করা দরকার ছিল। 
আদিলের মাঃ মায়েরা সন্তানের অনেক কিছুই অনুভব করতে পারে কিন্তু মুখে বলে না। অপেক্ষা করে যেন সন্তান নিজে থেকে বলে। এই ব্যাপারে কি করবা?
জামান সাহেবঃ ছেলের সাথে আমি একা একটু কথা বলতে চাই। আজ রাতে আলাপ করব। 
আদিলে মাঃ ছেলেকে বকা দিও না কিন্তু।
জামান সাহেবঃ তোমার সারা জীবন এমন কেন মনে হয় যে আমি তোমার ছেলে কে শুধু বকা দিব। ও কি আমার সন্তান না, আমার কি ভালবাসা নাই। 
আদিলের মাঃ তা না, ছেলে টা তোমাকে একটু ভয় পায়। 
জামান সাহেবের চেহারাতে ভাজ পড়ে গেল। আদিলের মায়ের চিরচেনা এই ভাজ। চিন্তিত জামান সাহেব। চিন্তিত কর্কষ কন্ঠে বললেন, আমি একা তোমার ছেলের সাথে কথা বলতে চাই, তোমার ছেলেকে বলে দিও, রাতে খাওয়ার পড়ে বসব। 

কথা বলতে বলতে বিকাল হয়ে গেল। আদিলের মা চা বানাতে রান্না ঘরের দিকে ছুটলেন। আর জামান সাহেব ইউটিউব খুললেন পুরোন দিনের গান শুনবেন বলে। 

রাত ৯ঃ৩০ দিকে আদিল বাসায় ফিরল। হাত মুখ ধুয়ে বাবা মায়ের সাথে খেতে বসল। খেতে খেতে বাবা বললেন, আদিল তোমার সাথে আমার একটু কথা আছে। খাওয়ার পরে আমার সাথে বস। তুমি আর আমি কিছু বিষয় নিয়ে আলাপ করব। আদিল মনে মনে ভয় পেয়ে গেল। 

মাকে জিজ্ঞাসা করল তুমি থাকবে তো? মা বলল, না বাবা আজকের সময়টা তুই আর তোর বাবা আলাপ কর। ভয় কিসের আমি তো পাশের ঘরেই আছি।
আদিলঃ তোমাকে ছাড়া তো বাবার সাথে তেমন কথা বলিনি, এর এই ব্যাপারে কথা বলতে আমার ভীষণ লজ্জা লাগবে।
মাঃ দেখ না তোর বাবা কি বলে।
আদিলঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

আদিলের মনের মাঝে চলতে থাকল এক অজানা এতংক "বাবা কি বলবে"। আদিলের বাবার কথা গুলো আগামী কাল জানাব।

Monday, June 29, 2020

একটা স্বপ্নের গল্প - তৃতীয় পর্ব

আজকে ভার্সিটি নাই। কোন তারা নাই। তাই আস্তে ধীরে ঘুম থেকে উঠল সুমাইয়া। রাতে অনেক ক্ষন আদিলের সাথে ফোনে কথা বলছে। আজকে মনটা বেশ ফুরফুরা। সুমাইয়ার ব্যাপারে একটু বলি। মেয়েটা অনেক আহামরি সুন্দর তা নয় এবং হালকা পাতালা দেখতে। কিন্তু মন মানুষিকতার দিক থেকে একটু সেকেলে। পড়াশোনায় ভাল ছিল। প্রেম ভালবাসা ওর কাছে একটা অনুভূতি মাত্র। যার জন্যে ও সব কিছু করতে পারে না। জীবনে প্রেম ভালবাসা আসলে বাস্তবতার ধারের কাছের কিছু না। আদিলের সাথে ওর সম্পর্কটা ভাল। সুমাইয়ার মতে বন্ধুত্বের থেকে একটু বেশি কিছু। ওর কাছে বিয়ে করাটা সব না। অনুভূতি আছে কিন্তু বাস্তবতাই আসল। আদিলের সাথে বিয়ে হলে ভাল, না হলেও সুমাইয়ার কোন সমস্যা নাই। সে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে। অনুভূতি হয়ত থেকে যাবে কিন্তু সে তার বাবাকে অনেক ভালবাসে তাই তার চিন্তাটা এই রকম। সে তার বাবা মা কে কষ্ট দিতে চায় না। ভালবাসার মানুষের জন্যে পরিবারের সাথে যুদ্ধ করতে চায় না। এছাড়া আদিল এখনও প্রতিষ্ঠিত না। 

সুমাইয়ার মায়ের নাম তুলি। ভদ্রমহিলা অবশ্য অপ্সরার মত সুন্দরী। মেয়েটা দেখতে হয়েছে বাবার মত। বাবা খালেক সাহবে মানুষ হিসাবে বেশ ভাল এবং সৎ সরকারী কর্মকর্তা। গ্রামে কিছু জমি ছিল তাই রক্ষা হইছে ঢাকা শহরের জীবন আর জীবিকা। চাষের জমি গুলো আগে নিজেই চাষ করাতেন কিন্তু পোষত না। তাই এখন বর্গা দিয়েছেন। বছরে ভাল আয় আসে। এছাড়া ২০১৫ সালে সরকার যখন সবার বেতন সমন্বয় করেছিল ভাল অংকের বেতন বেড়ে ছিল। না হলে ছেলে মেয়ের পেছেনে যে টাকা যায়। তারপর সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যেত। আগে অনেক কষ্ট হত। সরকারী কর্মকর্তা হিসাবে জীবেনে তিনি অনেক সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু সুযোগ ব্যবহার করেন নি, এমন কি অনেক সময় হুমকি ধামকি ও খেয়েছেন, কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে টলেন নি । কারন একটাই ভদ্রলোকের মা একজন ধার্মিক মানুষ ছিলেন এবং তার সন্তানকে সবসময় বলতেন বাবা যাই করিস হালাল কামাই করবি, কষ্ট হলেও জীবনটা শান্তির হবে। মায়ের উপদেশ কোনদিন অমান্য করেন নি। আজ অবশ্য তার সুফল তিনি দেখেতে পান।

সুমাইয়া সংসারে সবার ছোট। ওর একটা বড় আছে ফাহিম। সুমাইয়ার থেকে বছর তিনের বড়। এখন একটা বেসরকারী চাকরী করে। বাবা মা অনুরোধ করেছিল বি,সি,এস দিতে কিন্তু ফাহিমের সকাল সন্ধ্যা চাকরী ভাল লাগেনা। তাই রাজী হয় নি। পরিবার থেকে আর চাপাচাপি করেনি। ভালই আছে। যে অফিসে চাকরী করে কোম্পানীটা বাংলাদেশী তবে পরিবেশ ভাল। বেতন যা পায় তা দিয়ে চলে যায়। ছেলেটার একটাই খারাপ অভ্যাস আছে একটু সিগারেট খায়। এছাড়া সব ভাল। সংসারে টাকা দিতে হয় না। মাঝে মাঝে আদরের বোনকে হাত খরচ দেয়। সে বোন কে অনেক আদর করে। ফাহিম সুমাইয়ার মত বাস্তব বাদি না। ভালবাসা বলতে সে যা বোঝে তা শুধু অনুভূতি না, ভালবাসা মানে জীবন। এই অনুভূতির জন্যে অনেক কিছু করা যায়। দুঃখের বিষয় হচ্ছে ছেলেটা আজ পর্যন্ত একটা প্রেম করতে পারলনা। কেন যেন হলই না। মিষ্টি চেহারার ছেলে, দেখতে মায়ের মত। কল্পনার জগতে তার বাসবাস। বাবা মা কে অনেক জীবনের শুরুতে কষ্ট করেতে দেখছে কিন্তু কেন যেন সে বাস্তবতার নিরিখে নিজেকে সাজাতে পারেনি। 

আদিল এত সব ব্যাপার জানে না। আদিল শুধু সুমাইয়াকে ভালবাসে। সাহস করে মা কে বলছে। মা হয়ত বাবাকে বলবে। তারপর কি হবে। রাতে সুমাইয়ার সাথে কথা হইছে মন মেজাজ ভাল। আজকে অফিসের কাজে মন বসছে না। আজকে অবশ্য একটা অদ্ভুত ব্যাপার হয়েছে। নতুন সিনিয়র ম্যানেজার কাজে যোগদান করেছেন। এ ব্যাপারে নোমান ভাইও জানতেন না। যিনি যোগদান করেছেন, তিনি নোমান ভাই এর বস। এগুলো নিয়ে চিন্তা করতে ইচ্ছা করেছে না। মনের মাঝে যুদ্ধ চলছে কি হবে। আগামী কাল শুক্রবার মা হয়ত কালই বাবাকে বলবে। 

আর চিন্তা করেতে ইচ্ছা করেছে না। চিন্তা করে কি হবে। আদিল চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিল আর চিন্তা করবে না, যা হবে দেখে শুনে সমাধান করবে। চলেন দেখি আগামী কাল কি হয়।  


Sunday, June 28, 2020

একটা স্বপ্নের গল্প - দ্বিতীয় পর্ব

আজকের সকালটা অন্য রকম। আজকে সরকারী ভাবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সফল যুব উদ্যোগতাদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হবে। তাই তাড়াতাড়ি করে প্রস্তুত হচ্ছে যেন দেরি না হয়। নিজের গাড়ী নিজের চালিয়ে চলে গেল মিরপুর থেকে। যখন মাইকে আদিলে নাম ডাকল তখন ওর মনে হচ্ছে ওর মা ডাকছে। এমনতো হবার কথা না। এর মধ্যেই ঘুমটা ভাঙ্গল আর বুঝতে পারল এটা স্বপ্ন ছিল যা পূরণ হবে কিনা তা কেউ জানে না। একটা বীজ মনের মাঝেই রয়ে গেল। যাই হোক প্রস্তুত হয়ে অফিস তো যাতে হবে। তাই সে বিছানাটা ছাড়ল। 

আজ অফিসে অনেক কাজ। বসের তিনটা সভা আছে। সবগুলির উপস্থাপিত বস্তু (presentation) গত দুদিন ধরে বানাইছে। কাজ করতে হইছে অনেক। সব গুলি সকাল সকাল বসকে বুঝিয়ে দিতে হবে। আদিলের বসের নাম নোমান। নোমান ভাই বলেই ডাকে আদিল। অফিসে ঢুকে চলেগেল নোমান ভাইয়ের রুমে এবং জানতে চাইল কখন ল্যাপটপ নিয়ে আসবে। ঝটপট উত্তর এখনই চলে আস। প্রথমটা দেখানোর পর নোমান ভাই কিছু জিনিস পরিবর্তন করতে বললেন। পর পর প্রতিটাতেই অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হল। এই পরিবর্তন কাজের অংশ এইটা আদিল ভালই জানে। আজ এক বছরে অভিজ্ঞতায় এইটা স্পষ্ট যে আদিল যাই তৈরি করুক কোন দিন নির্ভুল হবে না। It will never be perfect, Sometime he thought is it the standard of corporate life. অনেক বড় ভাই আছে যারা বলে এইটাই স্বাভাবিক, মেনে নিয়েই চাকরী করতে হবে। 

আসল কথায় আসি, আদিল একটা বিষয়ে খুব চিন্তিত আর তা হচ্ছে তার বিয়ে। কিভাবে হবে? প্রস্তাব কিভাবে পাঠাবে। কি লিখেবে নিজের জীবন বৃত্তান্তে। বেতন পায় মাত্র কয় টাকা। বিয়ের খরচ আসবে কোথা থেকে। সুমাইয়ার বাবা মা ভাল মানুষ। তবে সুমাইয়ার বাবা সরকারী চাকরী করেন। ওদের পরিবারের অধিকাংশ মানুষই সরকারী চাকুরী করে। তাই আদিলের আরও ভয় এই সমান্য চাকরী করা ছেলেটার সাথে মেয়েকে বিয়ে দেবে কিনা। আদিল অবশ্য একটা কাজ করছে। নিজের মাকে মনের কথাটা বলছে। মা তো অনেক খুশী ছেলের জন্যে মেয়ে দেখতে হবে না। ছেলের পছন্দই তার পছন্দ। কিন্তু সব শুনে ভদ্রমহিলাও চিন্তায় পরে গেলেন। এই বিয়ে হবে কিভাবে। আদিলের বাবাও তো বেসরকারী চাকুরী করেন। সমাজিক অবস্থান দেখে যদি মেয়ের পরিবার বিয়েতে রাজী না হয়। তাহলে ছেলেটা মনে কষ্ট পাবে এই চিন্তার মায়ের ঘুম হামার হবার যোগার। 

আদিলের বাড়ির একটু পরিচয় দেই। আদিলের দাদা কৃষক ছিলেন। অনেক কষ্ট করে কিছু জমিজমা করে ছিলেন যা আজও আছে গ্রামে। আদিলের বাবা জামান সাহেব অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছেন। জামান সাহেবরা তিন ভাই দুই বোন সে সবার বড়। সবার দায়িত্ব নিয়েছেন। এই বেসরকারী চাকুরীটাই তার সবকিছু করতে সহয়তা করেছে। আদিলের মা দোলা জামান সাহেবের সাথে সংসার করে বুঝতে পেরেছেন তা স্বামী বড় মনের, সৎ এবং নিষ্টাবান মানুষ। শুধু তার পকেটটা একটু ছোট। তাই সব মিলিয়ে তিনি সংসার করেছেন। কোন অভিযোগ নেই। সমাজের চোখে জামান সাহেব বেরসিক মানুষ, কিন্তু আদিলের মায়ের সাথে তার সম্পর্কটা কিন্তু অনেক প্রেমময়। 

সবই তো বললাম কিন্তু বিয়েটা কিভাবে হবে। আদিলের মা এবার তার বাবার সাথে আলাপ করবে চিন্তা করেতেছে। কিন্তু আদিলের বাবা কিভাবে নিবে ব্যাপারটা এই নিয়েও আদিলের মায়ের চিন্তার শেষ নাই।

এত চিন্তার শেষ আসলে কোথায়। আচ্ছা আগামী কাল বোঝা যাবে আদিলের বাবা কিভাবে নেয় ব্যাপারটা।       

Saturday, June 27, 2020

একটা স্বপ্নের গল্প- প্রথম পর্ব

ভোরটা আজকে অন্য রকম, আর দশটা দিনের মত না। এত ভোরে ঘুম ভাঙ্গে না সাধারনত। রাত জেগে পড়া করা, বন্ধুদের আড্ডা, ওর সাথে ফোনে কথা বলা, এসাইনমেন্ট করা। তাই ভোর দেখা হয় নাই আদিলের। এই প্রায় তিন মাস হল ওর অনার্স শেষ হল। এখনও মাস্টার্স এ ভর্তি হয় নাই। আগে একটা চাকরী করতে হবে। 
 
আজ হঠাৎ ২ বছর আগের কথা মনে পড়ে গেল। বিভিন্ন কিছু দেখে মনে করেছিল ব্যবসা করবে। কত পরিকল্পনা কত স্বপ্ন। বন্ধুদের নিয়ে একটা দল তৈরি করেছিল। একটা যুদ্ধ করবে একসাথে। দেশের অর্থনীতিতে সাফল্য ধরে আনবে। দলে বাদ স্বাধার মত কেউ ছিল না। মনটা তখন আকাশের মত খোলা। যা  ইচ্ছা ভাবা যায় করা যায়। এমন না যে পকেট ভর্তি বাবার টাকা ছিল। শুধু বুক ভরা সাহস ছিল। শেষ রক্ষা হল না কারন মা বাবা গুরুজনরা বললেন ব্যবসা করতে টাকা লাগে এবং অভিজ্ঞতা লাগে আরও কত কি। 

অনার্স শেষ করে তিন মাসের চেষ্টায় একটা চাকুরী হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ্‌। এখন আর পেছনে তাকাতে হবে না। হাত খরচের জন্যে মায়ের কাছে চাইতে হবে না। এই মাসটাই যা কিছু টাকা নিতে হবে। এরপর আর পায় কে আমাকে। তাইতো আজ এত ভোরে ঘুম থেকে উঠল অফিস যেতে হবে। নতুন চাকরি সাথে কত না বলা স্বপ্ন। 

চাকরিতে প্রথম দিন তাই উবারে অফিল গেল যেন শার্টের ভাজ নষ্ট না হয়। মনে মনে ইচ্ছা যা কাজ দিবে তাই করব। আমি সব পাবর কারণ আমি তো স্বপ্ন দেখেছিলাম কি করতে হয় কিভাবে করতে হয়, এই স্বপ্ন কিন্তু রূপকথার গল্প দিয়ে বোনা নয়, এটা বই পড়ে, ইন্টারনেট ঘেটে তৈরি করেছিলাম। যা সে সব কথা, পুরোন ব্যপার মনে করে লাভ নেই। এখন নতুন কিছু করব। 

উর্ধতন কর্মকর্তা গল্প করলেন সাথে সবার সাথে পরিচয় পর্বে আজকের দিন শেষ। কোন কাজ হল না। নিজেকে প্রমান করার সুযোগ পেলাম না। আগামীকাল নিশ্চই সুযোগ আসবে। এভাবেই চলেতে থাকল, প্রতিদিন ছেলেটা নিজেকে তৈরি করে নিয়ে আসে নিজেকে প্রমাণ করার জন্যে কিন্তু বস প্রতিদিন নতুন কাজ দেন, সাথে বলে দেন কিভাবে করতে হবে। মাঝে মাঝে খোজ নেন কি অবস্থা। এখন মাঝে আজে মনে হয় বইয়ের কথা গুলো মিথ্যে, শুধু শুধু টাকা দিয়ে বই কিনে ছিল। শিক্ষকরাও মিথ্যাবাদী কোন কাজের জিনিস পড়ায় নাই। প্রায়ই বসের কাছে ঝারি খেতে হয়, সে কিছুইতো পারে না। মাঝে মাঝে ভাবে তাহলে তাকে বেতন কেন দেয়।  

ওহো খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হয় নাই, দিন দিন বিয়েটা খুব জরুরী হয়ে যাচ্ছে। কি যে করি? সুমাইযার অনার্স প্রায় শেষের পথে। সম্পর্কটা অনেক দিনের আজ প্রায় ৫ বছর হতে চলল। এই বয়সের প্রেম এতদিন টেকে না। তারপরও আমাদেরটা কিভাবে যেন টিকে গেল আল্লাহই জানে। কিন্তু এই চাকরী নিয়ে কিভাবে বিয়ের প্রস্তাব দিবে। ওর বাসায়তো তেমন কেউ জানেই না। মেয়েটার অনার্সটা শেষ হলে না হয় কিছু একটা ভেবে দেখা যেত। দুজনে চাকরী করে জীবন চলে যেত। 

এই অতি সাধারণ গল্পের শেষটা কি হবে আগামী পর্বে সাধারণ থাকবে না অসাধারন হয়ে উঠবে?

আমি কাপুরুষ

আমি কাপুরুষ চুপ থেকে হারিয়েছি ভাষা ভুলে গেছি কলম ধরা কন্ঠে আমার জমেছে ধুলা জীবনের আয়নাতে আজ হাত আমার বাধা সংসারের পাথরে আটকে গেছে পা এখন আর...