Tuesday, March 31, 2020

একটা ছোট্ট গল্প

ধিমি আচে গাছের পাতা ভেদ করে আসছে রাস্তার বাতির রশ্মি, চাদের হাসি আছে কিন্তু দেখা যায় না এই রঙ্গিন শহরে, আশেপাশের বাড়িগুলোর জানালাথেকেও ঠিকরে আসছে আলো, সাথে অনেক বাসা থেকে আসছে আড্ডার শব্দ, কানের কাছে ভন ভন শব্দতো আছেই। এর মধ্যে ঘুম কি আসে? আমি রুস্তম, এটিমএর নিরাপত্তা কর্মী। আমার কাজ দরজা খোলা বন্ধ করা। আমরাতো বেতনপাই, তাই আমাদের কেউ ধন্যবাদও দেয় না। এখন রাত ২টা বাজে, দরজার সামনে বাসে ঘুমানোর বৃথা চেষ্টা করতেছি।

আজ সারাদিন ২ জন মানুষ আসছিল টাকা উঠাইতে। একজন আবার বকশিস দিল ১০০ টাকা। প্রথমে জানতাম না, সবকিছু ছুটি। কি না কি করোনা না ফরোনা ভাইরাস আসছে তাই ছুটি চলতেছে, দুপুরে খাবারের খোজ করতে জানলাম। শেষে কিছু না পেয়ে একপ্যাকেট বিস্কুট খাইলাম, আর সামনের মসজিদ থেকে পানি নিয়ে খাইলাম। খেয়ে বাড়িতে বউএর কাছে ফোন দিলাম। কুশল সবই ভাল। মার ঔষধ শেষ, বাজারও লাগবে, ফোন শেষ করে ১০০০ টাকা বিকাশ করলাম। এই টাকাটা কয়েক মাস ধরে পকেটে ছিল, অনেক কষ্টে রেখেদিছিলাম, খরচ করি নাই। এখন মাঝে মাঝে মনে হয় আমার বাপটা ছোট বেলার বলতো একটু বইপত্র উল্টেপাল্টে দেখ, তাইলে জীবনে ভাল থাকতে পারবি। তখন শুনি নাই তাই আজ আমার এই দশা।  

পরের দিন সকালে বউ ফোন করে বলল আমাদের এলাকার কাউন্সেলর বাসায় চাল, ডাল, আলু আর কি কি যেন বাজার পাঠাইছে। সবার বাড়িতেই দিসে। তাও ভাল বিপদের দিনে সহায়তা করেছে।

একটা মজার ঘটনা মনে পরে গেল। আমরা যখন ৭ম শ্রেনিতে পড়ি, তখন প্রায় ১০ জন বন্ধু ছিলাম। ২ -৩ বছর আগপর্যন্ত যা জানি, আমাদের এই দশজনের দশ জনই জনসেবায় নিয়জিত আছি। আমার অবশ্য কারোর সাথে যোগাযোগ নাই কারন আমিই সবচেয়ে ছোট কাজ করি। 

এইদলের সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষটা আর যাই হোক, সে কিন্তু পড়াশোনায় আমার থেকে ভাল ছিল না। পড়াশোনায় যে ভাল ছিল আকরাম, সে এখন একটা বেসরকারি প্রতিষ্টান চালায়, মালিক না। কষ্ট করে পড়া শেষ করছে। শামিম বেসরকারি মেডিকেল থেকে পাশ করে এখন ডাক্তার। আসিফ ঢাকায় থাকে, একটা রেস্তোরাতে হিসাব বিভাগে কাজ করে, মালিকের নাকি খুব কাছের লোক। রনি ভাল আছে, বাবার ঔষধের দোকান দেখাশোনা করে, ও পড়াশোনা কতদূর করছে কেউ জিজ্ঞাসা করেনা, শুধু বিয়ের সময় মেয়ের বাড়ি থেকে জানতে চাইছিল। ফাহিম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে একটা বহুজাতিক প্রতিষ্টানে মানব সম্পদ বিভাগে কাজ করে, অনেক বেতন পায়। সেলিম পড়া শেষ করে সুপারিসের অভাবে অনেক দিন বেকার ছিল, দুইবার উদ্যোগতা হওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু পরিবারের কারও সায় ছিলনা তাই এখন ঘাড়গুজে ছোট্ট একটা চাকরী করে, শুধু নিজের কাজটাই দেখে, অন্যের ভুল দেখে না, অন্যকে ভাল বুদ্ধি দেয়না, এমন মানুষের অবশ্য শত্রুর অভাব হয়না। কামরুল শশুড়বাড়ি থাকে, শশুড়ের ছেলে নাই তাই তার ব্যবসা দেখে আর ছেলের মত তাদের সাথে থাকে, বউকে মান্নি করে চলে। রতন, নাম ও যেমন ওর কাজও তেমন, এখন একজন সফল উদ্যোগতা, অনেক মানুষ ওর ব্যবসার সাথে জড়িত, সবার উপকার করছে, নিজের কথা কম ভাবে, ওর মা ই একমাত্র মানুষ যার জন্য ও আজ এতদূর আসতে পারছে। আর সত্তার আছে যে সবথেকে ভাল, সবাই তাকে চিনে, ভালবাসে কিনা জানিনা।

আমরা তখন ৯ম শ্রেনিতে পড়ি বছরের শেষের দিকে পড়ার থেকে বেশি ব্যস্ত খেলা আর আড্ডা নিয়ে। তখনতো করিতকর্মা মুঠোফোন (smart phone) ছিল না, ছিলনা নেশার করাল গ্রাস। খারাপের মধ্যে তাশ খেলা আর এলাকার মেয়েদের নিয়ে আলোচনা করা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। আমাদের অনেক গুন ছিল যা আজকাল চোখে পড়ে না যেমনঃ সম্মান করা, স্নেহ করা, এলাকার কাজ করা ইত্যাদি। 

সালটা মনে করতে চাই না, ওই সময় সব কিছু ধংস হয়ে গেছে। স্কুলজীবন এবং বন্ধুত্ব সব সমাপ্ত। বাবা মারা গেলেন। আর পড়াশোনা হল না। আমাদের বন্ধু সত্তারের ও একই অবস্থা কেউ নাই সাহায্য করার মত। একদিন রাতে একসাথে বসে গল্প করছিলাম, সত্তার শুধু বলেছিল আমার অনেক ক্ষমতা চাই, যা দিয়ে আমি সবকিছু করতে পারব। ওর কলেজের খরচ কিভাবে চালিয়েছে তা বলতে পারবনা, কিন্তু বাজি ধরে বলতে পারি পড়াশোনা কোনদিন করেনি, আমার প্রশ্ন হল ও পাশ করল কিভাবে? তাও মানলাম কিন্তু ও এখন জনপ্রতিনিধি। বাড়ি গাড়ি চাকর বাকর কি নেই তার। মানুষের জন্য ভাল কি করছে তাও জানিনা। 

মাঝে মাঝে টিভিতে যখন কথা বলে বোঝা যায় জ্ঞান বুদ্ধি বলতে কিছু নাই আর যোগারের চেষ্টাও করেনা। আমার মনে হয় সমাজে দুই ধরনের সফল মানুষ আছে। কেউ জ্ঞান অর্জন করে বুদ্ধি দিয়ে কাজ করে কষ্ট করে সফল আর কেউ ভাগ্যক্রমে সফল। আমি আমার অবস্থানের জন্য লজ্জিত না, ভুল আমার, নিজেকে যোগ্য করে তুলতে পারিনি। কিন্তু যারা ভাগ্যক্রমে সফল তারা কি সারা জীবন এই সফলতা ধরে রাখতে পারবে। এই প্রজন্ম হয়ত ভুলে যাবে, পরবর্তি প্রজন্ম কি ভুলে যাবে বা ক্ষমা করবে ভুল সিদ্ধান্ত গুলোর জন্য। ইতিহাসের পাতা ঝাপসা হতে পারে কিন্তু থেকে যায় সবই। শেখার কোন বয়স নাই। শাক দিয়ে মাছ তখনই ঢাকা যায় যদি শাক বেশী থেকে। 

আমাদের আয় কিভাবে হয় জানেন? ব্যাংক ২৪ ঘন্টার জন্য আমার কোম্পানীকে ৩৬০০০ টাকা দেয়। আমি কোন কোন সময় ৪৮ ঘন্টাও একটানা দায়িত্ব পালন করি। আমার বেতন কত জানেন, অনেক টাকা, শুনলে অবাক হবেন, তা প্রায় ১০০০০ টাকা ৩০ দিনের জন্য, ঈদে অধিবৃত্তিও (bonus) দেয়। টাকা যাই দিক আমার টাকাটা কিন্তু হালাল, অনেক কষ্টের টাকা। সবার ছুটি কিন্তু আমার অধিকাল (Overtime Allowance) ভাতাও নাই।

গল্পটির পড়ে মতামত জানাতে ভুলবেননা। ভাল লাগলে শেয়ার করুন/সাবস্ক্রাইব করুন। 

Sunday, March 29, 2020

Covid-19

সাম্যের পৃথিবীতে সবাই আমরা আলাদা
থাকি আমরা একা একা
বাচতে চাই শুধু নিজে
ভালবাসি শুধু নিজেকে
বেছে থাকবো শুধু আমি আর আমিত্ব।

আমি চাই শুধু চাই
আমার আছে টাকা কারি কারি
তবুও আরো কিছু চাই
খাবার আছে তবুও আরো চাই
বাচতেও চাই, তাইতো আমি প্রস্তুত
নিয়া সবকিছু, আমার যে টাকা আছে

আমি চাই শুধু চাই
কিছু খাবার, কিছু কাপড়
কিছু শিক্ষা, কিছু ভালবাসা
বাচতে চাই, তবে তোমাদের নিয়ে
ভালবাসা চাই, তবে সবার
আমিও বাচতে চাই, কিন্তু আমি প্রস্তুত নই
আমার যে কর্ম ছাড়া, কিছু নাই।

সাম্যের পৃথিবীতে,
শুধু সাম্যের অভাব মেটাতে
আজ পৃথিবীতে covid-19 এলো
তবুও ধনিরা, আমি যে শুধু আমার
আর গরিবা, বেচে থাকার তাগিদে আমি যে শুধু আমার
মধ্যবিত্ত, আমি যে পরিবারের আর অফিসের
শুধু নাই আমি আমার মাঝে।

মারুফ হাসান
২৫/০৩/২০২০


Saturday, March 28, 2020

রসনা বিলাস

আমরা বাংলাদেশীরা জাতি হিসাবে ভোজনরসিক। তারমধ্যে এখন আছি গৃহবন্দী, এখনতো একপ্রকার খাবারের উৎসব চলতেছে বাসায় বাসায়। গতকালেকেই তো দেখলাম অনেকের বাসায় অনেক ভিন্ন ভিন্ন রান্না হইছে। মাশাল্লাহ আমরা কত রান্না জানি এইটাই জানা হইত না যদি এই করোনা না আসতো। আমাদের উচিৎ এই বাবুর্চীদের অনুপ্রানিত এবং সহায়তা করা যেন তারা আরো রান্না শিখতে পারে। 

যাই হোক, আমরা শুধু খাচ্ছি দাচ্ছি আর গুমাচ্ছি। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমরা অনেক আর্তজাতিক মানের বাবুর্চী পেয়ে যাব এবং অনেক নতুন রেঁস্তোরা চালু হতে পারে অদূর ভবিস্যতে। 

এবার আসল কথায় আসি, এই অলস সময় আমাদের আয়ু বারাতে সাহায্য করবে। কিভাবে? আমাদের ডায়াবেটিকস হওয়ার সম্ববনা বারবে এবং আমাদের জীবকে নিয়মতান্রিকতার মধ্যে নিয়ে আসবে যা আমাদের আয়ু বারাতে সাহায্য করবে। 

অথবা আর একটা কাজ করা যেতে পারে, পরিমত খাবার খেয়ে একটু কায়িক শ্রম করে  নিয়মতান্রিক্তার মধ্যে থাকতে পারি যা আমাদের ডায়াবেটিকস হওয়ার ঝুকি কমাতে পারে।   

সুস্থ থাকার চেষ্টা করার ক্ষমতা কিন্তু আপনার হাতে।  

Friday, March 27, 2020

Novel CoronaVirus

একটা দারুন সময়, না কষ্টকর সময় অথবা ধকল (Stress) ছাড়া সময়, কিন্তু সময়টা কাটাব কিভাবে এই প্রশ্ন সবার মনে। আসেন সবাই মিলে এবাং আলাদা থেকে ব্যবস্থা করি। ০১. আমরা অনেকেই বাসা থেকে ভার্চুয়াল অফিস করতেছি।০২. Laptop এর সামনে বসে জীবন সঙ্গীকে বলতেছি কাজ করতেছি, আসলে বাসার কাজ না করার চেষ্টা করতেছি।০৩. আমিও একই মানুষ, university র পড়া করি, অনেককে ফোন করি, অফিসের কাজ করি, আসলে কিছুই করিনা। শুধু বাসার কাজ না করার চেষ্টা করি।  তাই ভাবলাম সবাই দূরে থেকে মিলে মিশে কিছু করি। কি কি করা যায় চিন্তা করলাম। ০১. বই পড়া যেতে পারে। গল্পের বই নয়, প্রকৃত তথ্যভিত্তিক সাহিত্য যেমনঃ আত্মজীবনী কারণ আত্নজীবনী থেকে আমরা জানতে পারি আদর্শ মানুষ কি করে, আর আমরা কি করি, আর কি করা উচিৎ।  ০২. আমরা সবাই চাই আমাদের সম্পর্কগুলো facebook এ অন্যদের ছবিগুলোর মত সুন্দর হোক। কিন্তু তার জন্য ভাল ক্যামেরা কেনা ছাড়া আর কিছু করতে চাই না। এখন সু্যোগ আছে আসেন ভালবাসার মানুষের সাথে নতুন করে পুরোন সম্পর্ক তৈরি করি। ক্যামেরা ছাড়া। ০৩. সিনেমা দেখা যেতেপারে, তবে তা অবশ্যই পরিবারের সবার সাথে।  ০৪. আমরা আজ সামাজিক কিন্তু সমাজ এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে। আসেন অন্তত পারিবারিক সম্পর্কটা আরো সুন্দর করি।  ০৫. নেতা নেত্রীদের সমালোচনা থেকে বিরত থাকি। কারণ আমরা জীবনে কখনও বিবেচকের মত ভোট দেই নাই। আমরা দেশ এর জন্য কাজ করতে চাই না। ০৬. ব্যবসায়ীদের সমালোচনা থেকেও বিরত থাকি, কারণ তারা আছে তাই আমাদের চাকুরি আছে এবং আমরা কোন আপনজনকে আজ পর্যন্ত ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করিনি।  ০৭. যদি কিছু পরিবর্তন করতে হয়, তবে আমি আমার জীবনের অভ্যাস বা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারি। আর আমরা সমাজের দৈনন্দিন কাজগুলোকে পরিবর্তন করে সমাজকে বদলাতে পারি।    আমরা সবকিছুকে ভয় পাই কারন আমরা আত্মবিশ্বাসী নই অথবা অতিআত্মবিশ্বাসী। প্রকৃত তথ্যভিত্তিক সাহিত্য পড়া এবং অনুত্পাদক internet ব্যবহার কমিয়ে নেওয়া আমাদেরকে সাহায্য করতে পারে।  ধন্যবাদ কষ্টকরে পড়ার জন্য। মারুফ হাসান  

আমি কাপুরুষ

আমি কাপুরুষ চুপ থেকে হারিয়েছি ভাষা ভুলে গেছি কলম ধরা কন্ঠে আমার জমেছে ধুলা জীবনের আয়নাতে আজ হাত আমার বাধা সংসারের পাথরে আটকে গেছে পা এখন আর...