ভোরটা আজকে অন্য রকম, আর দশটা দিনের মত না। এত ভোরে ঘুম ভাঙ্গে না সাধারনত। রাত জেগে পড়া করা, বন্ধুদের আড্ডা, ওর সাথে ফোনে কথা বলা, এসাইনমেন্ট করা। তাই ভোর দেখা হয় নাই আদিলের। এই প্রায় তিন মাস হল ওর অনার্স শেষ হল। এখনও মাস্টার্স এ ভর্তি হয় নাই। আগে একটা চাকরী করতে হবে।
আজ হঠাৎ ২ বছর আগের কথা মনে পড়ে গেল। বিভিন্ন কিছু দেখে মনে করেছিল ব্যবসা করবে। কত পরিকল্পনা কত স্বপ্ন। বন্ধুদের নিয়ে একটা দল তৈরি করেছিল। একটা যুদ্ধ করবে একসাথে। দেশের অর্থনীতিতে সাফল্য ধরে আনবে। দলে বাদ স্বাধার মত কেউ ছিল না। মনটা তখন আকাশের মত খোলা। যা ইচ্ছা ভাবা যায় করা যায়। এমন না যে পকেট ভর্তি বাবার টাকা ছিল। শুধু বুক ভরা সাহস ছিল। শেষ রক্ষা হল না কারন মা বাবা গুরুজনরা বললেন ব্যবসা করতে টাকা লাগে এবং অভিজ্ঞতা লাগে আরও কত কি।
অনার্স শেষ করে তিন মাসের চেষ্টায় একটা চাকুরী হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ্। এখন আর পেছনে তাকাতে হবে না। হাত খরচের জন্যে মায়ের কাছে চাইতে হবে না। এই মাসটাই যা কিছু টাকা নিতে হবে। এরপর আর পায় কে আমাকে। তাইতো আজ এত ভোরে ঘুম থেকে উঠল অফিস যেতে হবে। নতুন চাকরি সাথে কত না বলা স্বপ্ন।
চাকরিতে প্রথম দিন তাই উবারে অফিল গেল যেন শার্টের ভাজ নষ্ট না হয়। মনে মনে ইচ্ছা যা কাজ দিবে তাই করব। আমি সব পাবর কারণ আমি তো স্বপ্ন দেখেছিলাম কি করতে হয় কিভাবে করতে হয়, এই স্বপ্ন কিন্তু রূপকথার গল্প দিয়ে বোনা নয়, এটা বই পড়ে, ইন্টারনেট ঘেটে তৈরি করেছিলাম। যা সে সব কথা, পুরোন ব্যপার মনে করে লাভ নেই। এখন নতুন কিছু করব।
উর্ধতন কর্মকর্তা গল্প করলেন সাথে সবার সাথে পরিচয় পর্বে আজকের দিন শেষ। কোন কাজ হল না। নিজেকে প্রমান করার সুযোগ পেলাম না। আগামীকাল নিশ্চই সুযোগ আসবে। এভাবেই চলেতে থাকল, প্রতিদিন ছেলেটা নিজেকে তৈরি করে নিয়ে আসে নিজেকে প্রমাণ করার জন্যে কিন্তু বস প্রতিদিন নতুন কাজ দেন, সাথে বলে দেন কিভাবে করতে হবে। মাঝে মাঝে খোজ নেন কি অবস্থা। এখন মাঝে আজে মনে হয় বইয়ের কথা গুলো মিথ্যে, শুধু শুধু টাকা দিয়ে বই কিনে ছিল। শিক্ষকরাও মিথ্যাবাদী কোন কাজের জিনিস পড়ায় নাই। প্রায়ই বসের কাছে ঝারি খেতে হয়, সে কিছুইতো পারে না। মাঝে মাঝে ভাবে তাহলে তাকে বেতন কেন দেয়।
ওহো খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হয় নাই, দিন দিন বিয়েটা খুব জরুরী হয়ে যাচ্ছে। কি যে করি? সুমাইযার অনার্স প্রায় শেষের পথে। সম্পর্কটা অনেক দিনের আজ প্রায় ৫ বছর হতে চলল। এই বয়সের প্রেম এতদিন টেকে না। তারপরও আমাদেরটা কিভাবে যেন টিকে গেল আল্লাহই জানে। কিন্তু এই চাকরী নিয়ে কিভাবে বিয়ের প্রস্তাব দিবে। ওর বাসায়তো তেমন কেউ জানেই না। মেয়েটার অনার্সটা শেষ হলে না হয় কিছু একটা ভেবে দেখা যেত। দুজনে চাকরী করে জীবন চলে যেত।
এই অতি সাধারণ গল্পের শেষটা কি হবে আগামী পর্বে সাধারণ থাকবে না অসাধারন হয়ে উঠবে?
No comments:
Post a Comment