আজকের সকালটা অন্য রকম। আজকে সরকারী ভাবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সফল যুব উদ্যোগতাদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হবে। তাই তাড়াতাড়ি করে প্রস্তুত হচ্ছে যেন দেরি না হয়। নিজের গাড়ী নিজের চালিয়ে চলে গেল মিরপুর থেকে। যখন মাইকে আদিলে নাম ডাকল তখন ওর মনে হচ্ছে ওর মা ডাকছে। এমনতো হবার কথা না। এর মধ্যেই ঘুমটা ভাঙ্গল আর বুঝতে পারল এটা স্বপ্ন ছিল যা পূরণ হবে কিনা তা কেউ জানে না। একটা বীজ মনের মাঝেই রয়ে গেল। যাই হোক প্রস্তুত হয়ে অফিস তো যাতে হবে। তাই সে বিছানাটা ছাড়ল।
আজ অফিসে অনেক কাজ। বসের তিনটা সভা আছে। সবগুলির উপস্থাপিত বস্তু (presentation) গত দুদিন ধরে বানাইছে। কাজ করতে হইছে অনেক। সব গুলি সকাল সকাল বসকে বুঝিয়ে দিতে হবে। আদিলের বসের নাম নোমান। নোমান ভাই বলেই ডাকে আদিল। অফিসে ঢুকে চলেগেল নোমান ভাইয়ের রুমে এবং জানতে চাইল কখন ল্যাপটপ নিয়ে আসবে। ঝটপট উত্তর এখনই চলে আস। প্রথমটা দেখানোর পর নোমান ভাই কিছু জিনিস পরিবর্তন করতে বললেন। পর পর প্রতিটাতেই অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হল। এই পরিবর্তন কাজের অংশ এইটা আদিল ভালই জানে। আজ এক বছরে অভিজ্ঞতায় এইটা স্পষ্ট যে আদিল যাই তৈরি করুক কোন দিন নির্ভুল হবে না। It will never be perfect, Sometime he thought is it the standard of corporate life. অনেক বড় ভাই আছে যারা বলে এইটাই স্বাভাবিক, মেনে নিয়েই চাকরী করতে হবে।
আসল কথায় আসি, আদিল একটা বিষয়ে খুব চিন্তিত আর তা হচ্ছে তার বিয়ে। কিভাবে হবে? প্রস্তাব কিভাবে পাঠাবে। কি লিখেবে নিজের জীবন বৃত্তান্তে। বেতন পায় মাত্র কয় টাকা। বিয়ের খরচ আসবে কোথা থেকে। সুমাইয়ার বাবা মা ভাল মানুষ। তবে সুমাইয়ার বাবা সরকারী চাকরী করেন। ওদের পরিবারের অধিকাংশ মানুষই সরকারী চাকুরী করে। তাই আদিলের আরও ভয় এই সমান্য চাকরী করা ছেলেটার সাথে মেয়েকে বিয়ে দেবে কিনা। আদিল অবশ্য একটা কাজ করছে। নিজের মাকে মনের কথাটা বলছে। মা তো অনেক খুশী ছেলের জন্যে মেয়ে দেখতে হবে না। ছেলের পছন্দই তার পছন্দ। কিন্তু সব শুনে ভদ্রমহিলাও চিন্তায় পরে গেলেন। এই বিয়ে হবে কিভাবে। আদিলের বাবাও তো বেসরকারী চাকুরী করেন। সমাজিক অবস্থান দেখে যদি মেয়ের পরিবার বিয়েতে রাজী না হয়। তাহলে ছেলেটা মনে কষ্ট পাবে এই চিন্তার মায়ের ঘুম হামার হবার যোগার।
আদিলের বাড়ির একটু পরিচয় দেই। আদিলের দাদা কৃষক ছিলেন। অনেক কষ্ট করে কিছু জমিজমা করে ছিলেন যা আজও আছে গ্রামে। আদিলের বাবা জামান সাহেব অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছেন। জামান সাহেবরা তিন ভাই দুই বোন সে সবার বড়। সবার দায়িত্ব নিয়েছেন। এই বেসরকারী চাকুরীটাই তার সবকিছু করতে সহয়তা করেছে। আদিলের মা দোলা জামান সাহেবের সাথে সংসার করে বুঝতে পেরেছেন তা স্বামী বড় মনের, সৎ এবং নিষ্টাবান মানুষ। শুধু তার পকেটটা একটু ছোট। তাই সব মিলিয়ে তিনি সংসার করেছেন। কোন অভিযোগ নেই। সমাজের চোখে জামান সাহেব বেরসিক মানুষ, কিন্তু আদিলের মায়ের সাথে তার সম্পর্কটা কিন্তু অনেক প্রেমময়।
সবই তো বললাম কিন্তু বিয়েটা কিভাবে হবে। আদিলের মা এবার তার বাবার সাথে আলাপ করবে চিন্তা করেতেছে। কিন্তু আদিলের বাবা কিভাবে নিবে ব্যাপারটা এই নিয়েও আদিলের মায়ের চিন্তার শেষ নাই।
এত চিন্তার শেষ আসলে কোথায়। আচ্ছা আগামী কাল বোঝা যাবে আদিলের বাবা কিভাবে নেয় ব্যাপারটা।
No comments:
Post a Comment