Monday, June 29, 2020

একটা স্বপ্নের গল্প - তৃতীয় পর্ব

আজকে ভার্সিটি নাই। কোন তারা নাই। তাই আস্তে ধীরে ঘুম থেকে উঠল সুমাইয়া। রাতে অনেক ক্ষন আদিলের সাথে ফোনে কথা বলছে। আজকে মনটা বেশ ফুরফুরা। সুমাইয়ার ব্যাপারে একটু বলি। মেয়েটা অনেক আহামরি সুন্দর তা নয় এবং হালকা পাতালা দেখতে। কিন্তু মন মানুষিকতার দিক থেকে একটু সেকেলে। পড়াশোনায় ভাল ছিল। প্রেম ভালবাসা ওর কাছে একটা অনুভূতি মাত্র। যার জন্যে ও সব কিছু করতে পারে না। জীবনে প্রেম ভালবাসা আসলে বাস্তবতার ধারের কাছের কিছু না। আদিলের সাথে ওর সম্পর্কটা ভাল। সুমাইয়ার মতে বন্ধুত্বের থেকে একটু বেশি কিছু। ওর কাছে বিয়ে করাটা সব না। অনুভূতি আছে কিন্তু বাস্তবতাই আসল। আদিলের সাথে বিয়ে হলে ভাল, না হলেও সুমাইয়ার কোন সমস্যা নাই। সে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে। অনুভূতি হয়ত থেকে যাবে কিন্তু সে তার বাবাকে অনেক ভালবাসে তাই তার চিন্তাটা এই রকম। সে তার বাবা মা কে কষ্ট দিতে চায় না। ভালবাসার মানুষের জন্যে পরিবারের সাথে যুদ্ধ করতে চায় না। এছাড়া আদিল এখনও প্রতিষ্ঠিত না। 

সুমাইয়ার মায়ের নাম তুলি। ভদ্রমহিলা অবশ্য অপ্সরার মত সুন্দরী। মেয়েটা দেখতে হয়েছে বাবার মত। বাবা খালেক সাহবে মানুষ হিসাবে বেশ ভাল এবং সৎ সরকারী কর্মকর্তা। গ্রামে কিছু জমি ছিল তাই রক্ষা হইছে ঢাকা শহরের জীবন আর জীবিকা। চাষের জমি গুলো আগে নিজেই চাষ করাতেন কিন্তু পোষত না। তাই এখন বর্গা দিয়েছেন। বছরে ভাল আয় আসে। এছাড়া ২০১৫ সালে সরকার যখন সবার বেতন সমন্বয় করেছিল ভাল অংকের বেতন বেড়ে ছিল। না হলে ছেলে মেয়ের পেছেনে যে টাকা যায়। তারপর সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যেত। আগে অনেক কষ্ট হত। সরকারী কর্মকর্তা হিসাবে জীবেনে তিনি অনেক সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু সুযোগ ব্যবহার করেন নি, এমন কি অনেক সময় হুমকি ধামকি ও খেয়েছেন, কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে টলেন নি । কারন একটাই ভদ্রলোকের মা একজন ধার্মিক মানুষ ছিলেন এবং তার সন্তানকে সবসময় বলতেন বাবা যাই করিস হালাল কামাই করবি, কষ্ট হলেও জীবনটা শান্তির হবে। মায়ের উপদেশ কোনদিন অমান্য করেন নি। আজ অবশ্য তার সুফল তিনি দেখেতে পান।

সুমাইয়া সংসারে সবার ছোট। ওর একটা বড় আছে ফাহিম। সুমাইয়ার থেকে বছর তিনের বড়। এখন একটা বেসরকারী চাকরী করে। বাবা মা অনুরোধ করেছিল বি,সি,এস দিতে কিন্তু ফাহিমের সকাল সন্ধ্যা চাকরী ভাল লাগেনা। তাই রাজী হয় নি। পরিবার থেকে আর চাপাচাপি করেনি। ভালই আছে। যে অফিসে চাকরী করে কোম্পানীটা বাংলাদেশী তবে পরিবেশ ভাল। বেতন যা পায় তা দিয়ে চলে যায়। ছেলেটার একটাই খারাপ অভ্যাস আছে একটু সিগারেট খায়। এছাড়া সব ভাল। সংসারে টাকা দিতে হয় না। মাঝে মাঝে আদরের বোনকে হাত খরচ দেয়। সে বোন কে অনেক আদর করে। ফাহিম সুমাইয়ার মত বাস্তব বাদি না। ভালবাসা বলতে সে যা বোঝে তা শুধু অনুভূতি না, ভালবাসা মানে জীবন। এই অনুভূতির জন্যে অনেক কিছু করা যায়। দুঃখের বিষয় হচ্ছে ছেলেটা আজ পর্যন্ত একটা প্রেম করতে পারলনা। কেন যেন হলই না। মিষ্টি চেহারার ছেলে, দেখতে মায়ের মত। কল্পনার জগতে তার বাসবাস। বাবা মা কে অনেক জীবনের শুরুতে কষ্ট করেতে দেখছে কিন্তু কেন যেন সে বাস্তবতার নিরিখে নিজেকে সাজাতে পারেনি। 

আদিল এত সব ব্যাপার জানে না। আদিল শুধু সুমাইয়াকে ভালবাসে। সাহস করে মা কে বলছে। মা হয়ত বাবাকে বলবে। তারপর কি হবে। রাতে সুমাইয়ার সাথে কথা হইছে মন মেজাজ ভাল। আজকে অফিসের কাজে মন বসছে না। আজকে অবশ্য একটা অদ্ভুত ব্যাপার হয়েছে। নতুন সিনিয়র ম্যানেজার কাজে যোগদান করেছেন। এ ব্যাপারে নোমান ভাইও জানতেন না। যিনি যোগদান করেছেন, তিনি নোমান ভাই এর বস। এগুলো নিয়ে চিন্তা করতে ইচ্ছা করেছে না। মনের মাঝে যুদ্ধ চলছে কি হবে। আগামী কাল শুক্রবার মা হয়ত কালই বাবাকে বলবে। 

আর চিন্তা করেতে ইচ্ছা করেছে না। চিন্তা করে কি হবে। আদিল চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিল আর চিন্তা করবে না, যা হবে দেখে শুনে সমাধান করবে। চলেন দেখি আগামী কাল কি হয়।  


No comments:

Post a Comment

আমি কাপুরুষ

আমি কাপুরুষ চুপ থেকে হারিয়েছি ভাষা ভুলে গেছি কলম ধরা কন্ঠে আমার জমেছে ধুলা জীবনের আয়নাতে আজ হাত আমার বাধা সংসারের পাথরে আটকে গেছে পা এখন আর...